থাইল্যান্ডকে ভিসা পদ্ধতি সহজ করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা পদ্ধতি আরও সহজ করতে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংটার্ন সিনাওয়াত্রার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনুস।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে থাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঢাকার থাই দূতাবাসের অনেক বেশি ভিসা প্রক্রিয়া করার ক্ষমতা নেই, যার ফলে দীর্ঘ বিলম্ব হয় এবং থাইল্যান্ড ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশিদের অপেক্ষায় থাকতে হয়।
ড. ইউনূস দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জাহাজ চলাচল এবং সমুদ্র সম্পর্ক ও বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট চালু করে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে ভ্রমণের সময় কমানো যেতে পারে। এক দশকেরও বেশি সময় আগে চট্টগ্রাম ও থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর চিয়াং মাইয়ের মধ্যে এয়ার এশিয়ার ফ্লাইট চালুর ফলে যে প্রভাব পড়েছিল, সে কথা তিনি স্মরণ করেন।
থাই প্রধানমন্ত্রী বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ড. ইউনূসকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তিনি আঞ্চলিক গোষ্ঠীতে নতুন গতিশীলতা সঞ্চার করবেন।
ড. ইউনূস বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী এবং চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশকে থাইল্যান্ডের প্রাথমিক স্বীকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী প্রয়াত রাজা ভূমিবলের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
আলোচনায় বিনিয়োগের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে ড. ইউনূস আগামী সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠাতব্য বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনে থাই কোম্পানিগুলোকে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির সুবিধার্থে দুই দেশের মধ্যে রেল, সড়ক, সামুদ্রিক এবং বিমান যোগাযোগ উন্নত করার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি প্রস্তাব দেন যে পরিস্থিতি অনুকূল হলে বাংলাদেশ থাইল্যান্ড, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় মহাসড়ক প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী।
ড. ইউনূস প্রস্তাব করেন যে উভয় দেশই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দ্বিপাক্ষিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি তৈরির জন্য একটি যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করতে পারে, যাতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা যায়।