কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে হিন্দু সন্ন্যাসীদের স্মারকলিপি

এবার গত সাত দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো, কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সন্ন্যাসীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এ স্মারকলিপিতে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কথিত নিপীড়ন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্য দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়েছে, সন্ন্যাসীদের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের কার্তিক মহারাজ।
বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের প্রধান ফটকে স্মারকলিপিটি দূতাবাস কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার পর কিছুটা দূরে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে মুর্শিদাবাদে ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রধান কার্তিক মহারাজ সাংবাদিকদের বলেন, তারা আরও কিছুদিন অপেক্ষা করবেন। পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
কার্তিক মহারাজ বলেন, বাংলাদেশে ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি দেওয়া না হলে এবং ‘সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার না কমালে’ তারা লাখ লাখ মানুষ নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে যাবেন। সীমান্ত বন্ধ করে দেবেন। ভারত থেকে যেসব খাদ্য বাংলাদেশে যায়, তা আর যাবে না।
তিনি বলেন, স্বামী প্রলবানন্দজী মহারাজ ১৯১৭ সালে ভারত সেবাশ্রম সংঘ বাংলাদেশের ফরিদপুরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে আমাদের ১১টি কেন্দ্র রয়েছে। তিনি ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব কৃষ্ণ কনসাসনেস (ইসকন )সহ অন্যান্য হিন্দু সংগঠনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
তিনি বাংলাদেশ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি আরও যোগ করেন, কলকাতায় হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর বিক্ষোভে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অংশ নেওয়া উচিত।
এর আগে, হিন্দু সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে শত শত মানুষ গত সপ্তাহে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের বাইরে বিক্ষোভ করে ও কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। বিক্ষোভকারীরা উপহাইকমিশনের কাছে পুলিশের লাগানো ব্যারিকেডও ভেঙে ফেলে।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার সদস্য বলে দাবি করা বেশ কয়েকজন কলকাতার এসপ্ল্যানেড এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেছে, এতে বাংলাদেশের মানুষ এবং পণ্য বয়কটের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
বুধবার দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ের উপকূলবর্তী অঞ্চলে রাজা রথিনাম স্টেডিয়ামের সামনে বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ করেছে বিজেপি, আরএসএস, এবিভিপি, হিন্দু মুন্নানি এবং অন্যান্য হিন্দু সংগঠনের সমর্থকেরা।
আজ বৃহস্পতিবার, কলকাতার রানি রাশমনি অ্যাভিনিউতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে হিন্দু সংগঠনগুলো। গত ২ ডিসেম্বর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পেট্রাপোলে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী অংশ নিয়েছিলেন।