শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

রংপুর প্রতিনিধি :

প্রকাশিত: ২১:১৬, ৪ এপ্রিল ২০২৫

সারজিস আলম

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে চাই

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে চাই
সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত জাতীয় নাগরিক পার্টি। এমন চ্যালেঞ্জ নিতে আমরা অভ্যস্ত। জাতীয় নাগরিক পার্টি এক মাস হয়েছে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো যেন সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া যায় বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রংপুরের কেরামতিয়া মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে মসজিদে নামাজ শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। 

সারজিস বলেন, আগে রাজনীতি ছিল টাকা দিয়ে মনোনয়ন কেনা, রাতের আঁধারে কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাওয়া। এবার জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে, আমরা জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে সংসদে যেতে চাই। জাতীয় নাগরিক পার্টি উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক টিম হিসেবে আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩২টি জেলায় যাব।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি বিগত এক যুগ ধরে রাজনীতি গণমানুষের রাজনীতি ছিল না। আমরা মাঠে, ঘাটে, অলিতে-গলিতে জনগণের কাছে যাব, আমরা যা করতে চাই, বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখি সেই প্রত্যাশার কথা তাদের কাছে তুলে ধরব। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের চোখের সামনে জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত নিথর দেহ ছিল, লাশগুলো ছিল, সেগুলো যদি আমাদের সামনে রাখতে পারি তাহলে চব্বিশের জুলাইয়ের স্পিরিট থেকে কখনো বিচ্যুত হবো না। জনগণের চাওয়া অনুযায়ী আগামীর বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যেতে পারবো। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারলে জনগণ তাদের রায় দিয়ে সংসদে নিয়ে যাবে

এনসিপির কমিটি কেমন হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ থেকে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি ফর্মেশন প্রক্রিয়ায় চলে যাব। এপ্রিল মাসেই জেলা ও উপজেলা কমিটি দেখতে পারবেন। জেলা-উপজেলায় আমাদের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে। তারা মনে করেন এই তরুণরা দেশের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং জেলা-উপজেলার নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা তাদের রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২৮ থেকে ২৯টি দেশ একসঙ্গে ফাংশন করছে। প্রতিটি রাষ্ট্রের আন্তঃদেশীয় ও আন্তঃঅঞ্চল ভিত্তিক আদান-প্রদানের সম্পর্ক থাকবে। তারা দেশের বন্দরগুলো ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন করবে। কিন্তু এগুলো সমতার ভিত্তিতে হতে হবে। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পারিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক থাকতে হবে। ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে। 

শেখ হাসিনার শাসনামলের কথা তুলে ধরে সারজিস আলম বলেন, বিগত এক যুগ ধরে আমরা ডমিনেন্স ফিল করে এসেছি। এই সম্পর্কে কেউ যদি কারো জায়গা থেকে ডমিনেট করার চেষ্টা করে আমরা সেই চোখ রাঙানি আর দেখবো না। আমি মনে করি বাংলাদেশের সাথে ভারত, চায়না, আমেরিকা, রাশিয়াসহ যে কোনো দেশের সমতার সম্পর্ক থাকবে। আমরা পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধের সম্পর্কের ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যাব। 

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ, মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ ইমতি, সদস্য সচিত রহমত আলীসহ আরও অনেক উপস্থিত ছিলেন। 

জনপ্রিয়