বরিশালে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার

প্রশাসনের আশ্বাসে পাঁচ ঘণ্টা পরে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন বরিশাল বাস শ্রমিক ইউনিয়ন। একইসঙ্গে সন্ধ্যা থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করেছে। এতে করে বরিশাল থেকে ১৬টি রুটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
শনিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় এ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন রূপাতলী বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, প্রশাসন থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে বাস শ্রমিকদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। তা ছাড়া রমজান মাসে জনভোগান্তি যেন না হয় সেই বিবেচনায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ওইদিন বেলা ১১টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন খয়রাবাত সেতুর ঢালে বাস মালিক সমিতি কর্তৃক পরিচালিত চেকপোস্টে বাধা দেয় সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার চালকরা। এই নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এর প্রতিবাদে দুপুর ১টার দিকে কর্মবিরতির ডাক দেয় বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানায় বিভাগের ১১টি বাস মালিক সমিতি ও ১১টি শ্রমিক ইউনিয়ন। বন্ধ হয়ে যায় ১৬টি রুটের বাস চলাচল।
এ ঘটনায় বাস ও সিএনজি শ্রমিকদের মারামারি থামাতে গেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন শ্রমিকরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সমঝোতায় বেলা ১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন তারা। এ সময়ে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দেন শ্রমিকরা। এরমধ্যে ১০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করে বলে নিশ্চিত করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সোনিয়া খান সানি।
বরিশাল সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, থ্রি-হুইলার চালকদের হামলার প্রতিবাদে ধর্মঘট শুরু হয়েছিল। প্রশাসন থেকে জনভোগান্তি রোধে আহ্বান জানানো হয়। সেইসঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেয়। এরপরই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
মেট্রোপলিটন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, সবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।